Notification texts go here Contact Us Buy Now!

জোনাকি পোকার পশ্চাদ্‌দেশে আলো জ্বলার রহস্য উদঘাটন!

Md Nafiul Haque

 

জোনাকি পোকার পশ্চাদ্‌দেশে আলো জ্বলা নিয়ে প্রশ্ন মাথায় আসেনি এমন মানুষ আছে কি-না আমার জানা নেই। শহরে তেমনভাবে জোনাকি না দেখা গেলেও গ্রামের দিকে দেখা যায় এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। রাতের আকাশের তারা যেনো মাটিতে চলে আসে। জোনাকি পোকার আলো জ্বলার দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক জোনাকি পোকার পশ্চাদ্‌দেশের আলো রহস্য। 

জোনাকি পোকার পশ্চাদ্‌দেশে আলো জ্বলে কেন?

জোনাকি পোকার দেহের পিছনের অংশে Luminescent organ থাকে। এই Organ থেকে লুসিফারেজ (Luciferage) লুসিফারিন (Luciferin) নামে দুটি রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয়। লুসিফারেজ একটি এনজাইম যা আলো ছড়ায় অর্থাৎ এই লুসিফারেজ এনজাইমের কারণেই জোনাকি পোকা আলো জ্বলে। আর লুসিফারিন তাপ প্রতিরোধী যা আলোকে ঠান্ডা রাখে।

আমরা জানি আলো জ্বলার সময় তাপশক্তিও উৎপন্ন হয়। এখন প্রশ্ন হলো জোনাকি আলো জ্বালানোর সময় উৎপন্ন তাপ সহ্য কীভাবে করে অথবা পুড়ে যায় না কেন?

যখন কোনও বস্তু থেকে আলো উৎপন্ন হয়, সেখানে তাপ উৎপন্ন হয়। বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানোর আধঘণ্টার মধ্যে বাল্বটা ভীষণ গরম হয় ওঠে। তবে সাধারণ বাল্বের তুলনায় এনার্জি সেভিং লাইটগুলো কম তাপ উৎপন্ন করে। এগুলো গরমও কম হয়। এজন্যই এদেরকে এনার্জি সেভার বলে। সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্ব যে পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি নেয়, তার নব্বই ভাগ তাপ উৎপাদনে ব্যয় হয়। বাকি দশভাগ থেকে আসে আলো। এনার্জি সেভার তাপের তুলনায় আলো উৎপন্ন করে অনেক বেশি। জোনাকি পোকার ক্ষেত্রেও এনার্জি সেভের ঘটনা ঘটে। তবে জোনাকি পোকার এনার্জি সেভিং ক্ষমতা টিউব লাইটের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। আসলে জোনাকির আলো একেবারে ঠান্ডা। তাই নিজের আলোয় জোনাকি জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে যায় না।

জোনাকি আলো কেন দেয়?

অন্ধকারে পথ দেখার জন্য জোনাকি আলো জ্বালে না। জোনাকির আলো আসলে তার ভাষা। বেশিরভাগ কীট-পতঙ্গই মুখ দিয়ে শব্দ করতে পারে না। কেউ ডানা ঝাপটে, কেউ পা দিয়ে শব্দ করে ভাবের আদান-প্রদান করে। জোনাকি সেটাও করতে পারে না। তার ভাব বিনিময়ের একমাত্র মাধ্যম হলো তার আলো।

জোনাকির আলো একটানা জ্বলে না। একবার জ্বলে আবার নেভে। সাধারণত সমুদ্রের সিগন্যাল লাইটগুলোও এভাবে জ্বলে আর নেভে। জোনাকি এভাবে আলো জ্বালিয়ে নিভিয়ে অন্যদের কাছে সিগন্যাল পাঠায়, মানে ভাব বিনিময় করে।

প্রজননের জন্যই জোনাকি মূলত আলো জ্বালে। পুরুষ জোনাকিগুলো উড়তে উড়তে আলো জ্বালে। অর্থাৎ সিগন্যাল পাঠায়। সিগন্যাল পাঠায় স্ত্রী জোনাকির উদ্দেশ্যে। স্ত্রী জোনাকিরা তখন ঝোপের আগায় কিংবা ঘাসের ওপর বসে থাকে। পুরুষ জোনাকির সিগন্যাল বা সঙ্কেত এসে ধরা পড়ে তাদের মস্তিষ্কে। স্ত্রী জোনাকিরা তখন সেই সঙ্কেতে সাড়া দেয়। নিজেরাও সঙ্কেত পাঠায়। সঙ্কেত লক্ষ করে ছুটে যায় পুরুষ জোনাকির কাছে, তারপর মিলন।


এখন প্রশ্ন করতে পারেন, শত শত জোনাকির সঙ্কেত থেকে সঠিক সঙ্কেতটা স্ত্রী জোনাকি চিনতে পারে কীভাবে?

আসলে প্রত্যেক জোনাকির সঙ্কেতের ধরণ আলাদা আলাদা। স্ত্রী জোনাকির যে সঙ্কেতটা পছন্দ হয়, ঠিক সেই পুরুষটাকে খুঁজে বের করে।

পৃথিবীতে নানা প্রজাতির জোনাকি আছে। শুধু মাত্র নিজের প্রজাতির মধ্যেই জোড়া বাঁধে জোনাকিরা। প্রত্যেক জোনাকিই আলোর সঙ্কেতের ধরণ দেখে বুঝতে পারে সেটা তার স্বজাতির নাকি অন্য প্রজাতির। অন্য প্রজাতির আলোর সঙ্কেতে কোনো স্ত্রী বা পুরুষ জোনাকি সাড়া দেয় না।


إرسال تعليق

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.